লোডশেডিং ও বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ
নীলফামারীতে বাড়ছে সোলারের ব্যবহার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৭-২০২৬ ০৪:০৬:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৭-২০২৬ ০৪:০৬:৩৫ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের বাড়তি বিল এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে নীলফামারীতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌরবিদ্যুৎ। ফিলিং স্টেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বাড়িতেও বাড়ছে সোলার প্যানেলের ব্যবহার।
ব্যবহারকারীরা বলছেন, এককালীন বিনিয়োগে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ পাওয়া, মাসিক বিল কমানো এবং লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ায় সৌরবিদ্যুতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই উৎস বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার হামিদা ফিলিং স্টেশনে প্রায় এক বছর আগে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। এতে গ্রাহকসেবা সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয়ও কমেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হচ্ছে। একই সঙ্গে জেনারেটরের ব্যবহারও কমে গেছে।
ফিলিং স্টেশনের কর্মী হামিদুল ইসলাম বলেন, আগে বিদ্যুৎ চলে গেলে মধ্যরাতে জেনারেটর চালু করতে হতো। এখন সোলার ব্যবহারের ফলে যে কোনো সময় নির্বিঘ্নে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ ভবনের ছাদেও বসানো হয়েছে আটটি সোলার প্যানেল। এসব প্যানেলের মাধ্যমে ভবনের ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি চালানো হচ্ছে। ফলে ওই ভবনের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে না। লোডশেডিং হলেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ রেজাউল করীম বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সোলার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি জানান, একটি সোলার প্যানেল সাধারণত ২০ থেকে ২৫ বছর ব্যবহার করা যায়। ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মানভেদে এর আয়ু দুই থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হয়। শুরুতে খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রিডের বিদ্যুতের তুলনায় সাশ্রয়ী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সোলার ব্যবহারকারী জোবাইদুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে সোলার ব্যবহার করলে দৈনন্দিন বিদ্যুতের চাহিদার বড় একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকেই পূরণ করা সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ বিল যেমন কমবে, তেমনি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমবে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রায় ৩৪০ দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহুয়া শবনম বলেন, নগরায়ণের সঙ্গে সোলার প্রযুক্তি আগের চেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হয়েছে। শুরুতে স্থাপনের ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক বিনিয়োগ।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উন্নয়ন গবেষক ওমর ফারুক বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাড়ানো গেলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি আমদানির চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও কমবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ এখন আর শুধু বিকল্প নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর ও টেকসই বিনিয়োগ।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স